Milad o Sirater Shomadhan
মিলাদ ও সীরাতের সমাধান
আগে সালাম, না আগে কালাম?
অনেকের একটি আপত্তি হলো মীলাদ শরীফের কিয়ামে দয়াল নবীজি (সা.)-কে সালাম পেশ করা হয় يَا نَبِى سَلَامُ عَلَيْكَ ইয়া নবী সালামু আলাইকা। অথচ তিরমিযি শরীফের ২৬৯৯ নং হাদীসে এসেছে اَلسَّلَامُ قَبْلَ الْكَلَامِ আস সালামু ক্বাবলাল কালাম। এখানে কথার আগে সালাম প্রদানের কথা বলা হয়েছে। আর মীলাদের কিয়ামে সালামের আগে নবীকে সম্বোধন করা হয় আগে আর সালাম দেওয়া হয় পরে তাই এটি নাজায়েয ও বিদআ’ত। এখানে এই আপত্তির দুটি জবাব দেওয়া হলোঃ
০১ নম্বর জবাবঃ
তিরমিযি শরীফের ২য় জিলদ ৯৯ পৃষ্ঠা , ২৬৯৯ নং হাদীসটি উল্লেখ করে ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে যাহ্হাক আত তিরমিযি ( তিরমিযি শরীফের লেখক) এটিকে দ্বঈফ ও মুনকার বলে প্রমাণ করেছেন। এবং মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে ৩৯৯ পৃষ্ঠা ৪৬৫৩ নং হাদীসেও এটিকে মুনকার বলা হয়েছে। উসূলে হাদীসের বিধানমতে মুনকার হাদীস শর’ঈ বিষয়ে দলীল যোগ্য নয়।
লা মাযহাবীদের তথা কথিত শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী তার তাহকীক করা সুনান তিরমিযিতে যঈফ, মুনকার, মওযু বা জাল; সিলসিলাতু আহাদীসি যইফা ওয়াল মাওযুয়ার ১৭৩৬ নং হাদীসে মওযু বা জাল; যইফু জামিউস সগীরের ৩৭৪ নং হাদীসে জাল বলেছে।
২নং জবাবঃ
আপত্তিকর اَلسَّلَامُ قَبْلَ الْكَلَامِআসসালামু কাবলাল কালাম হাদীসটি মুনকার যা দলীল দেয়ার উপযুক্ত নয় আর ইমাম বুখারী, নাসাঈর বর্ণিত قُلْنَا: يَا رَسُوْلَ اللهِ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ কুলনা: ইয়া রাসুলাল্লাহি হাদীসগুলো সহীহ এবং তা স্বয়ং সাহাবায়ে কেরাম আগে দয়াল নবীজিকে সম্বোধন করেছেন তারপর সালাম দিয়েছেন। অতএব বোঝাগেল সালামের আগে কালাম বৈধ।
এরকম আরো মাসয়ালা-মাসায়েল ও সাহাবীদের আমল সম্পর্কে জানতে এই বইটি পড়ুন।